আত্মকথন 🤓

 জীবনের অন্যতম অবিশ্বাস্য ঘটনাগুলির বর্ণনা লিখতে গেলে উত্তেজনায় হাত কাঁপে, স্মৃতিগুলু ঝাপসা হয়ে আসে, সমস্ত শরীরমনে এক অনাকাংখিত ভয় এসে ভর করে😰

....সে সময়ের, সেদিনগুলির সবকিছু অন্যরকমভাবে ঘটলে আজকের দিনটা কেমন হত?
মনে হতে থাকে, আজকের এই দিনটা কিছুতেই আজকের মতো হতনা। আমি থাকতাম অন্য এক
আমি। আশেপাশের সবকিছুকেই মনে হত অন্যরকমের অন্যকিছু। আসলে আমরা জীবনটা যেভাবে যাবে ভাবি, সেভাবে যায়না। জীবন যায় জীবনের মতোই । জীবনের রঙ কল্পনাতে একভাবে ধরা দেয়, কিন্তু বাস্তবে আসল রঙটা অন্যরকম। জীবনটাকে নিয়ে খেলতে খেলতেই জীবনটা পার করে দেবো, এটা ভাবলেই যে ওরকম ভাবেই জীবনটা কেটে যাবে, তেমনও নয়। কী হবে, কী হবে না, এর সবকিছুই আগে থেকেই ঠিকঠাক করা।
.... আমাদের কাজ শুধু এই রঙ্গমঞ্চে নিজের মতো করে চমৎকার অভিনয় করে যাওয়া। যার অভিনয় যত নিপুণ, সে তত ঘনিষ্ঠভাবে জীবনের স্বাদ পায়। ২০১১ সালে আমার জীবনের দো'টানা-পোড়ান শুরু হয়। আমার ইচ্ছে কোনটাই ছাড়বোনা।
উভয় দিকটাই বক্ষে বাধব। সবাই বলছিলো হেরে যাব। কিন্তু কে শুনে কার কথা। এক বন্ধুকে ফোন দিলাম “নো-কমেন্ট” বলে ফোনটা রেখে দিলে জেদ আরও চেপে বসলো। আমি ভাবলাম, হেরে যাওয়ার আগেই হারব কেন? আমি এর শেষ দেখেই ছাড়ব। বাসায় গুরু জনেরাও বলছিল, যেকোনো একটা ছেড়ে দাও। আমার মন বলছিল, আমি ছাড়ব না, কিছুতেই না! জীবনের সাথে এইবেলা একটু জুয়া খেলে দেখিই না কী হয়! আমার পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এমনকিছু যা আপনি খুব করে চাইছেন নিজের করে পেতে, ওটা হাতের কাছে এসেও গেছে, কিন্তু পরিস্থিতি এমন যে, ওটা আপনাকে ছেড়ে দিতে হবে, এরকম একটা মুহূর্তে স্থির থাকাটা কঠিন।ফোনে যাদের সাথেই কথা বললাম সবাই একটা কথাই বলল,
“তুমি একই সাথে দুটো ভাল জিনিস পাবে না।'' যেকোনো একটার মায়া ছাড়তে হবে। দুই নৌকায়
পা দিলে কোনটাই হবে না। ওই মুহূর্তে আমার কাছে কোনটাই বড় কিংবা ছোট এর কিছুই ছিল না, মাথা পুরোপুরি ব্ল্যাংক হয়ে গিয়েছিল, আর মনে হচ্ছিল, লাইফ আমাকে নিয়ে সাপ-লুডু খেলছে এই মুহূর্তে। লুডুর গুটিতে এমনই সংখ্যামান আসবে যে আমি সাপের পেটেই যাব, এমনটা তো নাও হতে পারে।
লাইফের সাপলুডুর বোর্ডে তো মইও থাকে!🤓
এই মুহূর্তের দানে মইতে ওঠার সংখ্যাটি আসবে
না, এটা কে বলল? লাইফটা সাপলুডুর মতোই, সর্বোচ্চ মানেই সবচাইতে ভাল, এমনটা নাও হতে পারে। হয়তো দুই দুইবার ৬, এরপর ৫ পড়ল, মোট ১৭, আর আমি চলে গেলাম ইয়া লম্বা এক সাপের পেটে, এমনও তো হয়!😂
আবার এমনও তো হয়, কোন এক দানে সবচাইতে কমটি, মানে ১(কানা) পড়ল, আমি মই বেয়ে তর তর করে উঠে গেলাম অনেক উঁচুতে। কমের খেলা বোঝাটাই সবচাইতে কঠিন!
সবচাইতে বেশিটাই সবচাইতে ভাল, এমনটা নাও হতে পারে। দেখতে হবে, সেটা আদৌ কতটুকু দরকার! অনেক আয়, অনেক নরকযন্ত্রণা; তবে সেই বড় সংখ্যামানের আয়ের কী দরকার? জীবনের সাথে মিলিয়ে ঠিক সংখ্যাটি বেছে নিতে জানাটা অনেক বড় একটি আর্ট!🤔
নদীর মাঝখানে দুই নৌকায় পা দিলে মৃত্যু নিশ্চিত। যুক্তি এটাই বলে। কিন্তু আমি দুই নৌকায় সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে পা দিয়েছি, দুটো নৌকাই একই সমান্তরালে একই গতিতে একই সময়ে সামনের দিকে এগিয়ে গেছে, তাই আমি নৌকাদুটোর মাঝখানে পড়ে প্রাণ হারাইনি।
এটার কী ব্যাখ্যা হতে পারে?
.....            .......
জীবনটা যুক্তিতে চলে না, জীবন চলে স্রষ্টার ইশারায়। জীবনটা যে সবসময়ই ব্যাখ্যায় চলে,তা নয়। কখনো কখনো জীবন চলে বিশ্বাসে। কারোর ব্যক্তিগত দর্শন এবং বিশ্বাসে যাপিত জীবনটা নিয়ে কিছুই বলার নেই, যদি সে জীবন অন্য কারোর জীবনযাপনে বাধা না দেয়। কোথাও জীবনের কোন ব্যাখ্যাযোগ্য রূপ দেখা যায় না এবং জীবনটা এরকমই! আমি শুধু মানসিক শক্তির জোরেই বিশ্বাস করেছিলাম, কিছু একটা মিরাকল ঘটবেই। সেটা ঘটেছিল, কারণ বিধাতার মাস্টার প্ল্যানে সেটাই ঘটার কথা ছিল। মাঝখানের সবকিছু ছিল আমাকে পরীক্ষা করার জন্য সৃষ্টিকর্তার কিছু খেলা কিংবা পরিকল্পনা। যে উপহারের যোগ্য আপনি নন, সে উপহার আপনাকে কখনওই দেয়া হবে না। আপনাকে পরীক্ষা করা হবে, সে পরীক্ষায় পাস না করলে আপনি স্রষ্টার অনুগ্রহ থেকে নিজের দোষেই বঞ্চিত হবেন।
…Heaps of hugs and love. মানুষ কীভাবে বাঁচে? মানুষ বাঁচে ভালোবাসায়, প্রার্থনায়, শুভকামনায়। ওগুলি নিয়েই বেঁচে আছি, বেশ ভালভাবেই বেঁচে আছি। শুকরিয়া!‼️✍️🅰️rnab.05.08.2023

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

Who is this RAMCHARAN? Possibley the most influential business consultant alive..................

🥀আমার ছেলেবেলা স্মৃতি সূমহ🥀